আত্মহত্যা

ইদানিং পত্রিকা খুললেই আত্মহত্যার খবর দেখতে পাই।
চারদিকের মানুষগুলো কেমন যেন হতাশ হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন।
কত সহজে মানুষগুলো নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে...



মানুষের জীবন সব সময় এক ভাবে যায় না।
কখনো ভালো সময় যায়কখনো খারাপ সময়।
সত্যি বলতেভালো থাকার চেষ্টা করার মাঝেই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অংশটি চলে যায়।
তাই বলেহতাশ হওয়াটা কি যৌক্তিক?
নিশ্চয় না।

মানুষ আত্মহত্যা করেযখন সে জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে।
কিন্তু এতো সম্ভাবনাময় পৃথিবীতে মানুষ কি করে চুড়ান্ত হতাশ হয়?

জীবন তো একটা উপহার।
একে নিঙড়িয়ে উপভোগ করতে হয়।

যত খারাপ সময় আসুক না কেনযত খারাপই থাকি না কেনআমাদের উচিত নয় আত্মহত্যা করা।
নিজেকে শেষ করে দেয়া কোন সমাধান নয়।

আত্মহত্যা তো কাপুরুষরা করেযারা জীবন যুদ্ধে হার মেনে নেয়।
জীবনটাই তো থ্রিলএকে সাসপেন্সের মতো শিহরণ নিয়ে উপভোগ করতে হয়।
সমস্যা থাকলেসেটার জাগতিক সমাধান থাকবেই।
আত্মহত্যা কোন সমাধান না।

যারা আত্মহত্যা করেতারা খুব স্বার্থপর।
নইলেতারা আশেপাশের মানুষদের কষ্টের কথা একবারও চিন্তা না করেকেমন করে আত্মহত্যা করে?
ভাবুন তোমেয়েটার বাবা-মা-ভাই-বোন-পরিবার-বন্ধু-পরিচিতজনদের মানসিক অবস্থাটি এখন কি?
ওর বাবা-মা-ভাই-বোন-পরিবার কি পরিমাণ কষ্ট ও ভয়াবহ দু:সময়ের মধ্য দিয়ে সময় পার করবেতা কল্পনাতীত।

প্রায় প্রতিদিনই আত্মহত্যা করার ঘটনা শুনি।
কেন রে ভাইয়া?
জীবনটা অনেক বড়অনেক সুন্দর...
দু:খহতাশা জীবনের অংশএগুলো না থাকলেজীবনের আনন্দ বুঝবে কি করে?
প্লিজ...
উল্টো-পাল্টা কিছু করার আগে বাবা-মাভাই-বোনপরিবারের কথা একটু ভেবো...
নিজের কথা ভেবো...

কষ্টের পরেই প্রশান্তি আসবে। এটা জগতের নিয়ম।
সুতরাংদু:সময়গুলোতে ধৈর্য ধরো।
দাঁতে দাঁত খিঁচে দু:সময়গুলো পার করে দাও। এরপর প্রশান্তি আসবেই।

বাঁচো...
থ্রিল নিয়ে বাঁচো...
জীবনের সব রস-রং উপভোগ করে বাঁচো...
দুর্ভাবনাগুলোকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করো...


[লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে:
 ফেসবুক, প্রথম আলো ব্লগ।]

Comments

Popular posts from this blog

মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনে পাকিস্তানি মানস

কল্পিত বিহারি গণহত্যাঃ একাত্তরের পরাজিত শক্তির অপকৌশল

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চীনের ভূমিকা ও ভাসানীর দায়