একাত্তরের মৃত্যুপুরী

একাত্তরের মে মাসের অন্যান্য রাতগুলোর মতই একটি রাত। 

ঢাকার মিরপুর এলাকা। 
হুসেনদের বাড়িতে ভরা মজলিশ। 

বিহারী গায়িকা হাফিজা দমাদম মাস্কালান্দর গান গাইছে। 
মদের গ্লাস হাতে নেশা নেশা আধো চোখে ক্যাপ্টেন নওশাদ অন্দরমহলে ঢুকবার অপেক্ষা আছে। 

হুসেন বাড়িতে কয়েকটা কচি মুরতাদ পাওয়া গেছে। 
ওদের পেটে সাচ্চা পাকি মুসলমানের বীজ দিতে হবে। 
পবিত্র এই দায়িত্ব পালনের অপেক্ষা কাটছে না। 
মেজর আহাদ এতো সময় লাগাচ্ছে কেন? 

ক্যাপ্টেন নওশাদের পাশেই বসে আছে রাজাকার মজনু মিয়া। 
চোখে ঘন করে সুরমা দেয়া। 
পাকিস্তানী গলাছিলা লাল মুরগীর রান চিবুতে চিবুতে গায়িকা হাফিজার বুকের মানচিত্রটা মেপে নিচ্ছে। 
বাহ! কি অপরূপ সৃষ্টি। 
হাফিজার বুকের উঁচু পাহাড়'দুটো দেখে মজনুর মনে পড়ে দিপার কথা। 
হুসেনদের ছোট মেয়ে দিপা হুসেন। 
মেয়েটার জন্য মজনু মিয়ার দিলে অনেক মহাব্বত ছিল কিন্তু কখনো পাত্তায় দিতো না। 
কি দেমাগী ছিল মেয়েটা! 
খুব ভালো হয়েছে খান সাহেবরা এখন দিপার সাথে সোহবত করছে। 
সব দেমাগ পানি করে দেবে। 

চারদিকে পবিত্র করার সোহবত চলছে। 
সাচ্চা পাকি মুসলমান পয়দা করার সোহবত। 

আনন্দে চোখে পানি চলে আসে মজনু মিয়ার; কারণ, হুসেনদের এই প্রাসাদপোদম বাড়িটা এখন তার দখলে। 
বাড়িটা আর ভেতরের মাল-পত্র সব মিলিয়ে লাখ-রূপিয়ার সম্পত্তি হবে। 

হুসেন বাড়ির আঙিনায় এগারোটা লাশ পড়ে আছে। 
রক্তের নহর এঁকে-বেঁকে গড়িয়ে আছে পুরো উঠোনটায়, যেন অনেকগুলো নদী। 

রাত বাড়ছে। 
আকাশটা মেঘে ঢেকে কালো হয়ে আছে। 
কালো আকাশের নিচে হুসেন বাড়িটা দৈত্যপুরীর মতো লাগছে। 

হুসেনদের দোষ ছিল, ওদের ছোট ছেলেটা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল...

Comments

Popular posts from this blog

মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনে পাকিস্তানি মানস

কল্পিত বিহারি গণহত্যাঃ একাত্তরের পরাজিত শক্তির অপকৌশল

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চীনের ভূমিকা ও ভাসানীর দায়