রঙ্গরসঃ স্ট্যালিন


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়কার কথা...

চার্চিল, রুজভেল্ট, স্ট্যালিন ব্ল্যাক সি'র তীরে একই সোভিয়েত গাড়িতে করে এক হিটলার-বিরোধী গোপন মিটিংয়ে যাচ্ছিলেন।

পথে হঠাৎ গাড়োয়ান গাড়ি থামিয়ে দিল।

বিরক্ত হয়ে কর্কশ কন্ঠে স্ট্যালিন গাড়োয়ানকে জিজ্ঞেস করলো-
"গাড়ি থামালে কেন? কি হয়েছে?"
গাড়োয়ান কাঁচুমাঁচু করে বললো-
"বস, একটা বড় জার্মান ষাঁড় রাস্তায় শুয়ে আছে"।

ততদিনে হিটলার অপারেশান বারবারোসা শুরু করেছে।
রাগে উন্মাদ হয়ে চিৎকার করতে লাগলেন স্ট্যালিন।

চার্চিল স্ট্যালিনের অবস্থা দেখে বললেন-
"মশাই একটু শান্ত হোন তো, এরকম আবেগী হলে চলে। আচ্ছা দাঁড়ান, আমি দেখছি কি করা যায়।"

এই বলে চার্চিল গাড়ি থেকে নেমে তাঁর কূটনৈতিক বুদ্ধি প্রয়োগ করে ষাঁড়টিকে রাস্তা থেকে উঠাতে চাইলেন।

কিন্তু বদ ষাঁড় 'হা...ম...বা' বলে বিকট একটা ডাক দিয়ে ঠাঁই ওখানে শুয়ে রইল, নো নরন-নো চরন, ভাবখানা এমন চার্চিল কোন হিন্দি চুলরে বাবা।

অপমানিত হয়ে চার্চিল ষাঁড়টিকে "ইউ স্যাভেজ, আনসিভিলাইজড মোরন" বলে গাল দিয়ে গাড়িতে উঠে মুখ গোমরা করে বসে রইলেন।

গোমরামুখো চার্চিলকে দেখে রুজভেল্ট বললেন-
"ও চার্চিল, গাল আর ফুলিয়ো না তো, এমনিই ফ্যাকাশে সাদা, এরকম গাল ফুলালে পঁচা ডিমের কুসুমের মত মনে হয়।"

ওদিকে স্ট্যালিন সমানে বকে চলেছেন।

এই দেখে স্ট্যালিনকে রুজভেল্ট বললেন-
"বাপু, থামুন তো। চেঁচানোর এত শক্তি কোই পান? আচ্ছা, আমি দেখি কি করা যায়।"

রুজভেল্ট গাড়ি থেকে নেমে ষাঁড়ের কানের কাছে যেয়ে বললেন-
"দেখো, বেশি কিছু বলবো না, পথ থেকে সরে দাঁড়াও, নয়তো মার্কিন আক্রমন সহ্য করো।"

জার্মান ষাঁড়টা তখন জাবর কাটতে কাটতে ঘোলা চোখে রুজভেল্টকে একবার দেখে নিলো, এরপর মাথা ঘুরিয়ে তার বাঁকা শিঙ দিয়ে দিলো এক জবর গুঁতো।

রুজভেল্ট পেটে হাত দিয়ে কুঁ কুঁ করে গাড়িতে এসে বসলেন।

ব্যাথায়-রাগে গজ গজ করতে লাগলেন রুজভেল্ট-
"কালই ব্যাটা, সিআইএ আর আইসেন হাওয়ারকে ডেকে তোর জিনা হারাম যদি আমি না করি, তবে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্টই নই।"

ততক্ষনে স্ট্যালিন কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছেন।

তাচ্ছিল্যের স্বরে বললেন-
"আঁ! মলো! দেখলুম মশাই আপনাদের খেমতা। ছ্যাঁ, ছ্যাঁ। পুঁজিবাদি আর সাম্রাজ্যবাদীরা আসলে এরকম নিকম্মই হয়।"

এই শুনে চার্চিল আর রুজভেল্ট সমস্বরে বললো-
"অত পারলে মশাই যান না, আপনি নিজে গিয়েই ষাঁড়টাকে সরান। সেই কখন থেকে চেঁচাচ্ছেন।"

স্ট্যালিন দুজনের দিকে ভ্রুকুটি করে নেমে পড়লেন জার্মান ষাঁড়কে রাস্তা থেকে উঠানোর মিশনে।

ষাঁড়ের সামনে যেয়ে নিজের ঘন গোঁফ হাত দিয়ে একটু বুলিয়ে নিলেন স্ট্যালিন।

তারপর জার্মান ষাঁড়ের কানের যেয়ে ফিসফিস করে বললেন-
"তা তোমায় কোথায় পাঠাই বলো তো, গুলাগে নাকি যৌথ খামারে।"

এই শুনে জার্মান ষাঁড় বার কয়েক কাতর সুরে হাম্বা ডাক দিয়ে তড়িঘড়ি করে রাস্তা থেকে সরে পড়লো...

ছবিসূত্র

[ ফেসবুক পোস্ট ]

Comments

Popular posts from this blog

মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনে পাকিস্তানি মানস

কল্পিত বিহারি গণহত্যাঃ একাত্তরের পরাজিত শক্তির অপকৌশল

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চীনের ভূমিকা ও ভাসানীর দায়