নাম না জানা ছেলেটা


ছেলেটা মাটিতে হাত বুলিয়ে নিল, নিজের মুখে মাটি জড়িয়ে নিল।

দেশের মাটি জড়িয়ে চোখ বন্ধ করে ছেলেটা অনুভবের গভীরে হারিয়ে গেল, যেন নিজের জন্মদাত্রী মা'কে জড়িয়ে ধরে আছে।


ছেলেটার সারা শরীর রক্তাক্ত, ফুলে ঢোল হয়ে আছে।


অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়ালো ছেলেটা।


চোখ শূণ্য হয়ে আছে, দৃষ্টি যেন সূদূরে কিছু দেখছে...



বিড়বিড় করে কি যেন বললো।


পাশে থাকা পাকিস্তানী অফিসার-সৈন্যরা কান খাড়া করে শুনতে চাইলো কিন্তু শোনা গেল না।


পাকিস্তানী টর্চারের শিকার রক্তাক্ত ছেলেটাকে শেষবারের মত পাকিস্তানী মেজর জিজ্ঞেস করলো, "ইটস ইউর লাস্ট চান্স, হোয়ার ইজ মুক্তি?"


ছেলেটা ফুলে যাওয়া রক্তাক্ত ঠোঁট সামান্য বাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো, "আই অ্যাম রেডি মেজর, মাই ডেথ উইল গিভ বার্থ থাউজেন্ডস মোর মুক্তি, জয় বাঙলা।"


পাকিস্তানী মেজর অবাক হয়ে রক্তাক্ত ছেলেটা দিকে কিছুক্ষন চেয়ে থাকলো।


এরপর চোখের ইশারায় অধ:স্তনকে আদেশ দিয়ে মেজর সরে গেলো।


নিজের কক্ষের দিকে দ্রুত পায়ে এগুতে লাগলো মেজর, এড়িয়ে যেতে চাইলো বাঙালি তরুণটির শেষ চিৎকার।


শেষ পর্যন্ত মেজর পারলো না এড়িয়ে যেতে, পাকিস্তানী রাইফেল গর্জে উঠার ঠিক আগে মেজর শুনলেন বাঙালি তরুণটি বুকে ঝিঁম ধরানো কন্ঠে চিৎকার করে বলছে, "জয় বাঙলা"।


একাত্তরের জুন মাস, রাজশাহী জেলার রোহানপুরের ধরা পড়া নাম না জানা এই বাঙালি মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানী ক্যাম্পে ভয়ংকর নির্মম অত্যাচার সহ্য করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নিয়েছিলেন কিন্তু মুখ খোলেননি, বলেননি তাঁর সহযোদ্ধাদের অবস্থান, মুক্তিযোদ্ধাদের পরবর্তী পরিকল্পনা...


সূত্র:

উইটনেস টু সারেন্ডার (সিদ্দিক সালেক)
যুদ্ধাপরাধীর জবানবন্দী (আবদুর রহিম)

ফেসবুক পোস্ট

Comments

Popular posts from this blog

মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনে পাকিস্তানি মানস

অপারেশন সার্চলাইটঃ একটি পরিকল্পিত গণহত্যার সূচনা

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চীনের ভূমিকা ও ভাসানীর দায়