চার্বাক


চার্বাকের ইতিহাসগুলো পড়ছি।
বেশকিছু মহামানবের প্রতি শ্রদ্ধা কমতে কমতে শূণ্যতে পৌঁছে যাচ্ছে।

এতদিন পর্যন্ত ভাবতাম তৎকালীন চারপাশের চরম অশান্তি, হানাহানি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বৌদ্ধ আর জৈন মতবাদের উৎপত্তি হয়েছিল।


এখন দেখছি কাহিনী পুরো উল্টো...

চার্বাকদের আর্দশে প্রভাবিত হলেও মনের রুদ্ধতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে না পেরে ও চার্বাকদের আপোষহীন বস্তুবাদের ঠেলা সামলাতে না পেরে "গৌতম বুদ্ধ ও আদিনাথ" "চার্বাক আর প্রথাগত সনাতনী ধর্মাচারকে" একত্রিত করে উদ্ভাবন করে দুটো গোঁজামিল মতবাদ, যা বর্তমানে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম নামে পরিচিত।

আদিনাথ ও গৌতম বুদ্ধকে এখন আর সমাজ-সংস্কারক বলে মানতে পারছি না; এরা প্রকৃতপক্ষে সনাতনী ধর্মের মেরামতকারী ছিল।


আদিনাথ, মহাবীর, গৌতম বুদ্ধ "চার্বাকের নৈরশ্বর ধারণা" গ্রহণ করেছিল কিন্তু পুনর্জন্ম, জাতিস্মর, পারলৌকিক জীবনের মত কাল্পনিক ও অবাস্তব ধারণা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারেনি।


আমি অবাক হই, কতটা প্রজ্ঞা থাকলে প্রায় তিন হাজার বছর আগে সেই অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের যুগে চার্বাকরা এমন কঠোর বস্তুবাদ বুঝতে পেরেছিল।

অবাক হয়ে ভাবি, কি করে তারা সত্য অনুধাবন করতে পেরেছিলেন !

কিন্তু চার্বাকরা পরিষ্ফুটিত হতে পারেননি।

তাদের সত্য উদঘাটন সে যুগে অধিকাংশই বুঝতে পারেনি, মেনে নিতে পারেনি।
কালের পরিক্রমা ও "তৎকালীন হিন্দুদের" চরম দমননীতির মুখে চার্বাকরা হারিয়ে গেছেন।

যদি চার্বাক দর্শন প্রতিষ্ঠা পেত; তবে, পৃথিবীর ইতিহাস হয়তো অন্যরকম হতো।

বিজ্ঞান, বাস্তবতা, সত্য ও মানবতা চর্চায় আমরা হয়তো অারো অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।

চার্বাকদের নিয়ে পড়া শেষ করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম।

প্রচন্ড গরম পড়ছে, চারপাশ চরম উষ্মতার তিক্ততায় ত্যাক্ত।
কিন্তু তারপরও পৃথিবী সুন্দর...
ইমপারফ্যাক্ট হওয়া সত্বেও আমরা মানুষরা এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চাই...

আমাদের এই বেঁচে থাকাটা হয়তো আরো অনেক সুন্দর হতে পারতো, যদি তিন হাজার বছর আগে উদ্ভূত চার্বাক দর্শন প্রতিষ্ঠা পেত।


একরাশ দীর্ঘশ্বাস রইল তিন হাজার বছর আগে একদল অসামান্য-প্রজ্ঞাবান-সত্য বুঝতে মানুষদের জন্য...


অন্ত:স্থল হতে চার্বাকদের জন্য শ্রদ্ধা ও সম্মান রইল।


পরিশিষ্ট:


চার্বাক হলো অবিশ্বাসের একটি দর্শন।


মূলত: "ভারতীয় ধর্মগুলো ও ইশ্বরগুলো এবং ভারতবর্ষে প্রচলিত বিশ্বাসগুলো তথা, হিন্দু ধর্ম" যে অসাড়, অবাস্তব ও অলীক, তা দাবি ও প্রমাণ করা থেকেই চার্বাকের উৎপত্তি আনুমানিক খ্রীস্টপূর্ব ১০০০-৫০০ অব্দে।


চার্বাকরা তাদের যুক্তি ও বস্তুগত প্রমাণ দিয়ে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, ধর্ম ও ইশ্বর মানুষের সৃষ্টি এবং হিন্দুধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলো মানুষের রচিত গল্পের বই বাদে ভিন্ন কিছু নয়।


তৎকালীন হিন্দুরা তাদের সর্বোচ্চ হিংস্রতা ও বর্বরতা দিয়ে চার্বাকদের দমন করেছিল।


আগ্রহীদের পাঠ সহায়িকা:


দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রীর "চার্বাকের দর্শন"

ড. রমেন্দ্রনাথ ঘোষের "ভারতীয় ধর্ম ও দর্শন"
অর্জুনবিকাশ চৌধুরীর "ভারতীয় দর্শন"

বাতিঘর পাঠাগারে বইগুলো পাবেন।


রণদীপম দা'র চমৎকার লেখা- চার্বাকের খোঁজে (যদিও অসমাপ্ত, তবে মূল ধারণা পেয়ে যাবেন)।

লিংক: http://horoppa.blogspot.com/2012/05/blog-post.html

একটি ওযেবসাইটের লিংক দিলাম, এটা দেখতে পারেন-

http://www.carvaka4india.com/

ফেসবুক পোস্ট

Comments

Popular posts from this blog

মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনে পাকিস্তানি মানস

কল্পিত বিহারি গণহত্যাঃ একাত্তরের পরাজিত শক্তির অপকৌশল

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চীনের ভূমিকা ও ভাসানীর দায়