একাত্তরের পাতা থেকে-০১


সারা একাত্তর জুড়ে পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিরা পাকিস্তান সরকার ও তাদের জনগণের নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। এইসময় ষোল হাজার বাঙালি সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা চাকুরীচ্যুত হন। এঁদের অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলে হত্যা করে পাকিস্তানীরা। আর সকল বাঙালিকে করা হয় নজরবন্দী।

১৯৭২ সালের ২৯ মার্চ বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিচার শুরু করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে, পাকিস্তান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিদের বাংলাদেশে ফিরতে না দিয়ে পাকিস্তান ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এঁদের জিম্মি করে রাখে।


ভারত সরকার ১৯৭২ সালের ১৪ জুন পাকিস্তানী জেনারেল নিয়াজী সহ ১৫০ জন যুদ্ধবন্দীকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।



শুরু হয় পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিদের উপর নতুন মাত্রায় অত্যাচার। পাকিস্তান সরকারের ছত্রছায়ায় পাকিস্তানীরা প্রতিদিনই বাঙালিদের জিম্মি করে রাখা জায়গাগুলোই আক্রমন করে বাঙালিদের হত্যা, ধরে নিয়ে যাওয়া, নারীদের ধর্ষন, লুটপাট করতো।


এই অত্যাচার থেকে বাঁচতে অনেক বাঙালি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। ভারত সীমান্ত, চীন সীমান্ত, আজাদ কাশ্মীর, আফগানিস্তান সীমান্ত, ইরান সীমান্ত দিয়ে বাঙালিরা পাকিস্তান ত্যাগের চেষ্ঠা করে।

পাকিস্তান থেকে আটকে পড়া জিম্মি বাঙালিদের পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান, পালিয়ে যাওয়া বাঙালিদের ধরিয়ে দিতে পারলে মাথাপিছু এক হাজার রূপী পুরষ্কার দেয়া হবে।

পাকিস্তানে থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়া বাঙালিদের পরিণতি ছিল ভয়াবহ...
পাকিস্তানী পুলিশ, গোয়েন্দা, সীমান্তরক্ষী, স্থানীয়দের হাতে নির্মমভাবে ধরা পড়া বাঙালিরা হত্যার শিকার হয়।
অধিকাংশ ঘটনায়, বাঙালি নারীদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সামনে ধর্ষন করা হতো, তারপর ধর্ষিতার সামনে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের জবাই করে হত্যা করা হতো, তারপর ধর্ষিতারও একই পরিণতি হতো।

Facebook Link

Comments

Popular posts from this blog

মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনে পাকিস্তানি মানস

অপারেশন সার্চলাইটঃ একটি পরিকল্পিত গণহত্যার সূচনা

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চীনের ভূমিকা ও ভাসানীর দায়