চসিক-মেয়র নির্বাচন: ত্রিপক্ষীয় প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি



চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ঢোল ইতিমধ্যেই বেশ জোরেশোরে বাজতে শুরু করেছে। নির্বাচনী পোস্টার-ব্যানারে চট্টগ্রাম শহরের সড়ক, অলিগলি ছেয়ে যাচ্ছে। সারা চট্টগ্রাম জুড়েই চসিক নির্বাচন এখন টক অব দি টাউন। কে হবেন পরবর্তী নগর পিতা? এই প্রশ্নই এখন সকলের চোখেমুখে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা আগামী জুন মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে চসিক নির্বাচন করতে চায়। এতে চট্টগ্রামের নির্বাচনী পালে হাওয়া আরো জোরে লেগেছে। এপর্যন্ত মেয়র নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জামাত ও জাতীয় পার্টি সহ বিভিন্ন দলের বারো-তেরো জন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এদের প্রত্যেকেই নিয়মিতভাবে চট্টগ্রাম শহরের নানান রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতির মাধ্যমে নিজেদের ইমেজ ভারী করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের নেতা-কর্মীরাও জনমত তৈরীর জন্য মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামে পরবর্তী নগরপিতার নির্বাচনী দৌঁড়ে আওয়ামীলীগের রয়েছে সম্ভাব্য তিন প্রার্থী; নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন এবং নগর আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। অন্যদিকে বিএনপি হতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র এম মনজুর আলম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি কাজী আকবর ও নগর বিএনপি নেতা অধ্যাপক আরিফ মঈনুদ্দিনের নাম শোনা গেলেও বর্তমানে সারাদেশে চলমান বিএনপি-জামাতের সহিংস কর্মসূচীর জন্য তাদের অবস্থা প্রায় কোণঠাসা। অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে ধনকুবের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান শেঠের নাম শোনা যাচ্ছে।

তবে, অন্যান্য সব দলের সব প্রার্থীদের ছাপিয়ে সম্ভাব্য পরবর্তী নগরপিতার আলোচনার শীর্ষে আছেন আওয়ামীলীগের তিন প্রার্থী। নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এর আগে তিনবার টানা চসিকের মেয়র ছিলেন। তার রয়েছে রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস ও বিশাল কর্মীবাহিনী। চট্টগ্রাম মহানগরের সর্বত্রই নেতাকর্মীরা তার পক্ষে জোর প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। চসিক নির্বাচনের প্রতিযোগীতায় মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন তার তিন দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। তার রয়েছে বিশাল ছাত্র ও তরুন কর্মী, নগরীতে তার পক্ষেও চলছে বিশাল প্রচারণা। চট্টগ্রাম মহানগরীর আওয়ামী রাজনীতির এই মূল দুই মেরুর বাইরে তৃতীয় আরেকজনের নাম এবারের চসিক মেয়র নির্বাচনে উঠে এসেছে। তিনি হলেন, নগর আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন বেশ সক্রিয় রয়েছেন। এই দুই নেতা ২০০৫ সালে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া ছালামকে 'রাজনীতির অতিথি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগের একটি সভায় বলেছেন, মেয়র পদে নির্বাচন করব হয় আমি নতুবা নাছির। এদিকে নাছির উদ্দিন বলেছেন, চসিক মেয়র হতে গেলে, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচনের তরণী পার হয়ে হতে হবে, আর এই সার্মথ্য মহিউদ্দিন-নাছির বাদে চট্টগ্রামে আর কারো নেই। তবে, এসবে দমে নেই সম্ভাব্য চসিক মেয়র পদপ্রার্থী আবদুচ ছালাম। তিনি তার মত করে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণার কাজ। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় বিলবোর্ডে রয়েছে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে নগরীর জন্য তার করা কাজের বর্ণনা সম্বলিত বিজ্ঞাপন। এছাড়া পোস্টার-ব্যানার কার্যক্রমও থেমে নেই। তারপরও বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে উঠান-বৈঠক নাম দিয়ে সশরীরে গণসংযোগও করছেন আবদুচ ছালাম, সাথে রয়েছে প্রতিদিন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সরব অংশগ্রহন। এই তিন মূল সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাইরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসি'র নাম আসছে কিন্তু তার পক্ষের নির্বাচনী ভিত শক্তিশালী নয়; অনেকেই তাকে এই নির্বাচনী দৌঁড়ের মূল ট্র্যাকে রাখতে চান না। মূলত: চট্টগ্রাম মহানগরীতে আওয়ামীলীগের এই তিন প্রার্থী 'মহিউদ্দিন-নাছির-ছালামের' ত্রিপক্ষীয় নির্বাচনী লড়াই নিয়েই রাজনীতির মাঠ উষ্ম হয়ে আছে। জনমত যাচাই করেও এমন ধারণা পাওয়া যায় যে, পরবর্তী চসিক মেয়র হতে পারেন এই তিনজনের একজন।

রাজনীতির খেলার উষ্ম মাঠ ছেড়ে চসিক-মেয়র নির্বাচিত করার মূল কারিগর আমজনতার দ্বারে এসে দেখা যায়, এবারের চসিক নির্বাচনে নগরের জলাবদ্ধতা, সড়ক ও সন্ত্রাস সহ বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টর কাজ করবে, নগরের বিশিষ্ট নাগরিকরাও একই কথায় সুর মিলিয়েছেন। জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরবাসীর জন্য একটি মহা সমস্যা। নিত্যদিনের জোয়ারে নগরের ২২ টি খালের পানি বেড়ে বেশ কয়েকটি এলাকা দিনের একটি বড় সময় জলমগ্ন থাকে। আবার বর্ষাকালে নগরের বিশাল অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে থমকে যায় জীবনের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ। গত নির্বাচনে টানা তিনবারের মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলমের বিজয়ী হবার অন্যতম প্রধান কারন ছিল, তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় নগরীর জলবদ্ধতার যে মহাসমস্যা, তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম সড়কের অবস্থা চলমান জলাবদ্ধতার মতই। নগরীতে চসিক, ওয়াসা ও সিডিএ'র অপরিকল্পিত ও সমন্বয়হীন নির্মাণ ও সংস্কার কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করার ফলে এবং জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এইসব নষ্ট সড়কে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, মানুষজন হেঁটেও ঠিকমত যাতায়াত করতে পারছে না; ফলে, যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে, খানাখন্দে পড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, জনসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। জলাবদ্ধতা ও সড়কের বেহাল অবস্থার পর অারেকটি বিষয় এবারের চসিক মেয়র নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে; তা হলো ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাস। বর্তমানে সারা দেশজুড়ে সাধারণ জনতার উপর চলছে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস; চট্টগ্রামও এর বাইরে নয়, প্রতিদিনই বর্তমান মেয়র-দলীয় নেতাকর্মীরা পেট্রোল-ককটেল বোমা সন্ত্রাস করতে গিয়ে গ্রেফতার হচ্ছে, সহিংসতায় আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ নিহত মানুষ, ধ্বংস হচ্ছে আমজনতার সম্পত্তি। নগরীর এই তিন মহা সমস্যা 'জলাবদ্ধতা-সড়ক-সন্ত্রাস' সমাধানে গত চার বছরে বর্তমান মেয়র মঞ্জু কি কি করেছেন, কতটুকু কাজ হয়েছে, কেন এখনো সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি, বর্তমান কি পরিস্থিতি, কোন এলাকার মানুষ এসব সমস্যার কারণে কতটুকু দুর্ভোগে আছে, নগরীর এইসব সমস্যা সমাধানে কি কি করা যায়, মেয়র নির্বাচিত হলে এইসব সমস্যা সমাধানে কে কি করবেন, অতীতের ইতিহাস তুলনা করে কোন প্রার্থী নগরীর জন্য অধিক বান্ধব; এসব বিষয় চসিক-নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন বক্তব্যে উঠে আসছে, চলছে এক প্রার্থীর সাথে অপর প্রার্থীর জোর তুলনা।

চসিক নির্বাচন নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী-নাছির উদ্দিন-আবদুচ ছালাম দ্বন্দ্বের জট গতবছরের শেষার্ধে, মানে কয়েকমাস আগেও বেশ ঘনীভূত ছিল কিন্তু গত নভেম্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাদের আভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দেয়ার পর, প্রকাশ্যে তারা পরস্পরের প্রতি বন্ধুত্বভাবাপ্নন কথা বলা শুরু করেন। কিন্তু দিন যত চায়, ততই পরিবর্তিত হতে থাকে রাজনৈতিক হাওয়া। চসিক-মেয়র নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হবার পর প্রকাশ্যে চির প্রতিদ্বন্দ্বী মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ.জ.ম. নাছির উদ্দিনের মাঝে বেশ ভাব-খাতির দেখা যায়। কিছুদিন অাগে এমনও বলেছেন এই দুই নেতা যে, তাদের মাঝে যাকেই নমিনেশন দেয়া হোক না কেন, তা তাদের সুসম্পর্কে ফাটল ধরাবে না এবং আওয়ামী লীগ হতে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নমিনেশান মহিউদ্দিন চৌধুরী ও নাছির উদ্দিনের বাইরে যাবে না; এতে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে আবদুচ ছালামের প্রতি বিরোধীতার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে বলেই মনে করেন নগরীর রাজনৈতিক বোদ্ধারা। তবে, মহিউদ্দিন-নাছিরের এই সখ্যতা শুধু পোষাকী, তা বিভিন্ন সময়ে পরস্পরের প্রতি পরস্পরের দেয়া বক্তব্যে খুব স্পষ্ট।

চসিকের সম্ভাব্য মেয়র-প্রার্থীদের শীর্ষে থাকা এই তিন আওয়ামী লীগ নেতা নিজেদের নমিনেশনের জন্য জোরেশোরে কাজ করে যাচ্ছেন, পিছিয়ে নেই তাদের কর্মীরাও; তাদের কর্মীরা করে যাচ্ছেন পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষেদাগারের প্রচার। মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরোধীরা তার অধিক বয়স, দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে অর্ন্তদ্বন্দ্ব, হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে দূরত্ব ও মুসলমান ধর্মীয় বিভিন্ন ধরণের সংগঠনগুলোর সাথে সখ্যতার বিষয়টি সামনে আনছেন। নাছির উদ্দিনের বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী তোষণের অভিযোগ করছেন। আর অপর প্রার্থী আবদুচ ছালামের বিরুদ্ধে তার বিরোধীরা সিডিএ'র চেয়ারম্যান হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনীতিতে তরুণ, ব্যাক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার সহ নানান দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রথা থেকে বলা যায়, একই দলের নেতাদের এমন কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি ও দলাদলি নির্বাচন পরবর্তী সময়েও রয়ে যাবে, আর এর বাজে ফলাফল ভোগ করবেন দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা ও জনতা; ফলশ্রুতিতে যোগ্য নেতৃত্বের শূণ্যতা রয়ে যাবে।

গত রবিবার (০৮ মার্চ) হঠাৎ করেই চট্টগ্রাম মহানগর ১৪ দল তাদের সমন্বয় সভায় মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে এবং এবিষয়ে প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার কথা বলে। এই ঘোষণার পর পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে। খোদ অপর মেয়র পদে নমিনেশান প্রার্থী আ.জ.ম নাছির উদ্দিন ও আবদুচ ছালাম এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তবে, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ তার বর্ধিত সভায় সেই উত্তেজনার আগুনে পানি ঢেলে দিয়েছে। সভায় নেতারা ১৪ দলের ঘোষিত সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন আলোচনা না করে মেয়র পদে নমিনেশানের বিষয়ে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। নমিনেশান নিয়ে মহিউদ্দিন-নাছিরের দ্বন্দ্ব থাকলেও, তাদের এই দ্বন্দ্বের স্বরূপ দুজনেরই কেউই বর্তমান পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আনতে চান না।

আমজনতার চাহিদা পূরণে সম্ভাব্য ফেভারেবল প্রার্থী আওয়ামী লীগের তিন নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী-নাছির উদ্দিন-আবদুচ ছালামের মধ্যে কে পাবেন নির্বাচনী বৈতরণীর টিকেট, এ আলোচনায় মুখর বর্তমান চট্টগ্রাম মহানগীর সকলে। আর এই টিকেট প্রাপ্তির বিষয়ে তিন প্রার্থীর প্রত্যেকেই দলীয় সভানেত্রী, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখাপেক্ষী। ইতোমধ্যে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশান নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করা হয়েছে। তাই, গত ০১ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম সফরকে এই বিষয়ে বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলেন চট্টগ্রামের সকলে। চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী মেয়র নির্বাচন নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন কিনা, এনিয়ে চট্টগ্রামের আমজনতা, রাজনীতিক ও সুশীল মহলে জল্পনা-কল্পনার অন্ত ছিল না কিন্তু সব আশায় গুঁড়েবালি; শেখ হাসিনা কোন ইঙ্গিতই দিলেন না।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশান মেয়র নির্বাচনে সম্ভাব্য মূল তিন প্রার্থীর মাঝে কে পাচ্ছেন নমিনেশান, তা নিয়ে এখনই কোন সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না। চট্টগ্রামে এমনও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, এখানকার নেতাদের অনেকেই নতুন নেতৃত্ব চান। তবে, শেষ কথা হলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন, তিনিই চসিক-মেয়রের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর কে পাচ্ছেন নমিনেশান, তার জন্য সব্বাইকে এখনো অপেক্ষা করতে হবে।

প্রথম প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
সম্পাদিত: ১০ মার্চ, ২০১৫

Comments

Popular posts from this blog

মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনে পাকিস্তানি মানস

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চীনের ভূমিকা ও ভাসানীর দায়

অপারেশন সার্চলাইটঃ একটি পরিকল্পিত গণহত্যার সূচনা