গুলশান হামলা ও ইসলামি জঙ্গিবাদ

জেহাদি জঙ্গিরা, মানে যারা কিলিং-ভায়োলেন্সে অংশ নেয়, তারা স্রেফ ধর্মীয় উন্মাদনার কারণে নৃশংসতা করে।

আর যারা এই জঙ্গিদের চালায়, মানে তাদের থিউরিটিকাল গুরু ও প্রধানদের উদ্দেশ্য থাকে ক্ষমতা ও অর্থ; আইসিসের তেল ব্যবসায়, তালেবানদের মাদক ব্যবসায়, আলকায়েদার অস্ত্র ব্যবসায় এবং উপ/ছায়া সরকারের কথা উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে বাংলাদেশ ইসলামি জঙ্গিদের দ্বারা আক্রান্ত।

২০১৩ সাল হতে নিয়মিতভাবে নাস্তিক, ভিন্নমতাবলম্বী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে আক্রমণের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তারা বৃহৎ সহিংসতা সংঘটিত করছে- জঙ্গি হামলায় গুলশানের মর্মান্তিক ঘটনা বাংলাদেশের বুকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্ট করেছে; জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ না করলে, এই ক্ষত গভীরতর হবে।

আইসিস ও আলকায়েদার ভাবশিষ্য জেএমবি ও আনসার আল ইসলাম এবং হিজবুত তাহরির বর্তমানে বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা ও টার্গেট কিলিং সংঘটন করছে, এটি নিঃসন্দেহে সত্য।

এদেরকে আড়াল হতে এধরণের কাজে আরো উৎসাহিত করে আর্থিক ও লজিস্টিক সার্পোট দিচ্ছি জামাত-ই-ইসলামি।

জামাত নিজ তরিকা হতে ভিন্ন এসব জঙ্গিসংগঠনকে আড়াল হতে স্পন্সর ও প্রভাবিত করছে।

তবে, এটিও সত্য যে, জামাত স্পন্সর না করলেও এই জঙ্গি সংগঠনগুলো জঙ্গি হামলা করতো।

যেহেতু তাদের কার্যক্রমে জামাত গেইনার, তাই জামাত আড়াল হতে তাদের সহযোগিতা, উৎসাহিত ও প্রভাবিত করছে।

দেশকে জঙ্গি হামলায় আক্রান্ত করে পাক-আফগান-আরব-নাইজেরিয়ার মত গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়ে প্রধানতম ইসলামি দল হিসেবে জামাতের ছায়া/উপ সরকার গঠন করার পরিকল্পনা আছে।

জামাত বর্তমানে নিজ অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি কৌশল হিসেবে এমনটি করছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-শাস্তি ও শাহবাগ আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে জামাতের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে, রাজনৈতিক ও সামাজিক দু'দিক হতেই।

অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জামাতিরা নিজ তরিকা হতে ভিন্ন হেফাজত-ই-ইসলামকে ব্যবহার করে।

সামাজিকভাবে হেফাজতের ব্যবহার সফল কিন্তু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়।

জামাতের শেষ চেষ্টা হলো, জঙ্গি সহিংসতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, পরিণতিতে গৃহযুদ্ধ এবং প্রধানতম ইসলামি রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতের উপ/ছায়া সরকার গঠন; যেমনটি মধ্যপ্রাচ্যে হচ্ছে। সেদিকেই এগুচ্ছে বাংলাদেশ।

আর এখানে জামাত নিজে সহিংসতায় যুক্ত হচ্ছে না বরং ইতোমধ্যে সহিংসতায় জড়িত অন্যান্য ইসলামি সংগঠনগুলোকে প্রভাবিত ও স্পন্সর করছে; এতে করে জামাতের ভালোমানুষি চেহারা বজায় থাকছে।

জামাতের এই পরিকল্পনায় যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা এতে বড় ভূমিকা রাখছে। তাদের সন্তানরা যুদ্ধাপরাধী পিতার ফাঁসিকে হত্যা হিসেবে দেখছে। তারা পিতৃহত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এইসব জঙ্গি সহিংসতার ঘটনায় জামাতের হয়ে স্পন্সরের ভূমিকা পালন করছে।

এইসব ঘটনার বেনেফিসিয়ারি হিসেবে স্পন্সরের ভূমিকায় জামাতের পাশাপাশি বিএনপি ও পাকিস্তানি আইএসআই-এর নাম ঘুরে ফিরে আসে।

এসবের প্রমাণ জঙ্গিদের অস্ত্র ও অর্থায়নের উৎস এবং তাদের যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্যগুলো খুঁজলে পাওয়া যায়।

বুদ্ধিমানের জন্য ইশারা যথেষ্ট, সরকারের আশা করি, বুদ্ধির কমতি নেই।

ইমেজ ধরে রাখতে যেয়ে রাষ্ট্রসহ পুড়ে যাবার মানে হয় না।

জঙ্গিবাদের এই কালো থাবা হতে পরিত্রাণ পেতে ইসলামি এসব জঙ্গিদের তাদের স্পন্সর সহ দমনই একমাত্র পন্থা।

Comments

Popular posts from this blog

মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনে পাকিস্তানি মানস

কল্পিত বিহারি গণহত্যাঃ একাত্তরের পরাজিত শক্তির অপকৌশল

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চীনের ভূমিকা ও ভাসানীর দায়