জঙ্গিবাদের চিরায়িত ছায়া

বায়াত্তরে দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু দালালদের যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে কাজ করা শুরু করেন।
দেশে ফেরার দুই সপ্তাহের মাথায় ৭২'র ২৪ জানুয়ারি দালাল আইন পাশ করা তার  অন্যতম বড় প্রমাণ।

এই সময়টাই জামাত, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামী পার্টি সহ যুদ্ধাপরাধ ও দালালিতে যুক্ত ছিল এমন সংগঠন ও এদের নেতা-কর্মীরা সমাজে নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হতো; এরা প্রকাশ্যে কিছু করার সাহস পেত না।
ফলশ্রুতিতে, তারা তাদের পুরোনো কৌশল ব্যবহার করে; আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেয়ে ছদ্মনামে কাজ করতে থাকে।


'যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য ও সমাজে নিজেদের পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য' জনগণের 'ধর্মীয় আবেগকে' পুঁজি করে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিরা 'মুসলিম বাংলা আন্দোলন' নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিল।
যাদের কাজ ছিল এটা প্রচার করা-

"বঙ্গবন্ধু সরকার ইসলাম বিরোধী, বঙ্গবন্ধু শীঘ্রই বাংলাদেশকে ভারতের কাছে দিয়ে দেবেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা এখন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, বাংলাদেশে মুসলমানরা এখন থেকে নিপীড়িত হবে, বঙ্গবন্ধু সরকার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার করার নামে মুসলিম আলেম-ওলামাদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ইসলাম ধ্বংস করতে চাইছে"।

জামাতে ইসলামী তাদের এই কূট-কৌশলটি বর্তমান সময়েও ব্যবহার করেছে; হেফাজতের উত্থান ও প্রগতিশীল-অবিশ্বাসী-ভিন্নমতালম্বী মুসলমান-সংখ্যালঘুর উপর সংঘটিত হত্যাকান্ড ও নির্যাতন এবং নানান জায়গায় নাশকতা সৃষ্টিকারী নামে-বেনামের সংগঠনগুলো এমনটিরই ইঙ্গিত দেয়।

বায়াত্তরের 'মুসলিম বাংলা আন্দোলন' এবং বর্তমান সময়ের 'হেফাজত, আনসার আল ইসলাম, জামায়েতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের' সৃষ্টি ও ভূমিকার মাঝে কি সত্যিই কোন পার্থক্য আছে?

বর্তমান সময়ে প্রগতিশীল, অবিশ্বাসী, ভিন্ন মতালম্বী মুসলমানদের হত্যা সহ নানাবিধ নাশকতাকারী হিসেবে জামায়াত-শিবির, আনসার আল ইসলাম, জামায়েতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ, হিজবুত তাহরীর সহ যেসব সংগঠনের নাম আসছে, তাদের কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ঘাঁটলে এটা সুস্পষ্ট হয়ে উঠে- এরা সকলে একই বিষধর সাপের ভিন্নমুখ।

আর বাংলাদেশে এই বিষধর সাপটি হলো, জামাত-শিবির।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই এই কূট-কৌশলটি ব্যবহার করে আসছে জামাত ও শিবির চক্র- 'বেনামের সংগঠন ও নাশকতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি'।

সাংগঠনিক ও আদর্শিক দিক হতে জামাত-শিবিরের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের ভবিষ্যত অন্ধকারে নিমজ্জিত, অনিশ্চিত।
জামাত-শিবিরের চুড়ান্ত পতন ছাড়া বাংলাস্তানের বাস্তবতা বাংলাদেশকে তাড়া করে ফিরবে।

অবশ্য বাঙালি এসব নিয়ে চিন্তিত কি-না, আমি সন্দিহান।
অধিকাংশ বাঙালির সহনশীলতা এতটাই মাত্রাতিরিক্ত যে, নির্যাতিত হয়েও চুপ করে থাকতে ভালোবাসে।
ধর্মীয় ছুতো তুলে নির্যাতনকে অধিকাংশ বাঙালিই সমর্থন করে।

আজকাল এই কথাটি  মনে ঘুরপাক খায়-
এমন 'বিরল সহনশীলতা সম্পন্ন ও ধর্মান্ধ গোঁড়ামীতে পরিপূর্ণ' এই বাঙালি জাতির ভবিষ্যত শুধু অন্ধকারের চাদরে ঢাকা।

Comments

Popular posts from this blog

মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনে পাকিস্তানি মানস

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চীনের ভূমিকা ও ভাসানীর দায়

অপারেশন সার্চলাইটঃ একটি পরিকল্পিত গণহত্যার সূচনা